সোনারগাঁ(নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে জাল জালিয়াতি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কয়েকজন দলিল লেখকের যোগসাজসে এ জালিয়াতি চক্র সক্রিয়ভাবে জাল নামজারি, খাজনা ও জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করে একের পর এক দলিল নিবন্ধন করে যাচ্ছে। সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো.রাসেল (সনদ নং-১৫১) নেতৃত্বে গত এক সপ্তাহে সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে কমপক্ষে ৫টি জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল নিবন্ধন করেছেন। তার অপকর্মে সহযোগিতা করেন একই অফিসের দলিল লেখক আল মামুন (সনদ নং-২০৮), মো.কবির হোসেন (সনদ নং-২১৬)। জাল জালিয়াতির বিষয়টির প্রমাণ পেয়ে সোনারগাঁ সাব রেজিষ্টার দলিল লেখক আল মামুন ও মো. কবির হোসেনের সনদের নিবন্ধন কার্যক্রম স্থগিত করেন। আর আগেও বিভিন্ন সময়ে এ চক্রটি অনিয়ম করে দলিল নিবন্ধন করেছেন। এঘটনায় সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দলিল লেখকদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, সরকারী প্রজ্ঞাপনে কোন দলিল নিবন্ধন করতে হলে অবশ্যই জমির নামজারি (খারিজ), খাজনা ছাড়া কোন দলিল নিবন্ধন করা যাবে না। সেই মোতাবেক সকল দলিল লেখক, দাতা, গ্রহিতা সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে দলিল নিবন্ধন করে থাকেন। সম্প্রতি সোনারগাঁ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে নামজারি ও খাজনার রশিদ কম্পিউটারের মাধ্যমে জালিয়াতি করে নকল নামজারি ও খাজনা তৈরি করে দলিল করে যাচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে নামজারি ও খাজনা তৈরি করে ৫টি জাল দলিল নিবন্ধন করেছেন। সোনারগাঁ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো.রাসেল, আল মামুন ও মো.কবির হোসেন সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির সভাপতি মো. খলিলুর রহমানের সনদ ব্যবহার করে এসব জালিয়াতি দলিল নিবন্ধন করেন। সভাপতির সনদে নিবন্ধন করলে যাতে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া যায়। জালিয়াতির মাধ্যমে দুটি দলিল যাহার নং-১৪৬৬৩ বিলওয়াহ হেবা ও ১৪৬৭৫ সাফ কাবলা নিবন্ধনের প্রমাণ পায় সাব রেজিষ্ট্রার মো.রিয়াজুল ইসলাম। জাল জালিয়াতির বিষয়টির প্রমাণ পেয়ে সোনারগাঁ সাব রেজিষ্টার দলিল লেখক আল মামুন ও মো. কবির হোসেনের সনদের নিবন্ধন কার্যক্রম স্থগিত করেন। সহযোগীদের সনদের কার্যক্রম স্থগিত করলেও জালিয়াতির প্রধান মো. রাসেল মিয়ার সনদের কার্যক্রম স্থগিত করেনি। এ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সোনারগাঁ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লিখকদের দাবি, সরকারী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে জাল জালিয়াতি চক্র সক্রিয়ভাবে দলিল নিবন্ধন করে যাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা হয়েও সোনারগাঁ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে মো. রাসেল জালিয়াতি করে দলিল নিবন্ধন করছেন। তারা সপ্তাহে দু’তিনটি দলিল নিবন্ধন করতে পারেন না। তারা দৈনিক ১০-১৫টি দলিল নিবন্ধন করেন। খাজনা, নামজারি এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্র কম্পিউটারে নকল করে এসব দলিল নিবন্ধন করছেন। জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তারা।
সোনারগাঁ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক গাজী কামাল হোসেন জানান, জাল জালিয়াতির কারণের সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির সাধারণ সম্পাদকের সনদ বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে সভাপতির সনদ দিয়ে একটি চক্র সক্রিয়ভাবে জালিয়াতি করে যাচ্ছে। জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জালিয়াতি চক্রের প্রধান অভিযুক্ত দলিল লেখক মো. রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জালিয়াতির সঙ্গে তিনি জড়িত না। জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ার সাব রেজিষ্ট্রার তার সনদের কার্যক্রম স্থগিত করেনি বলে দাবি করেন। অন্য দুজনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
জালিয়াতি চক্রের সদস্য আল মামুনের দাবি, তিনি এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত না। এসব অপকর্ম দলিল লেখক কবির করেছেন। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।
সোনারগাঁ সাব রেজিষ্ট্রার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আল মামুন ও মো. কবির হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণ পাওয়ায় তাদের সনদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। রাসেলের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনজনের সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হবে।

































Discussion about this post