যশোর জেলা প্রতিনিধি, মনিরুজ্জামান মনির:
ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ ওজনের যানবাহন চলাচল করায় স্থায়িত্ব হারাচ্ছে গ্রামীন সড়ক। পিচের রাস্তা মেয়াদের আগেই ফাটল ধরছে। বিভিন্ন সড়কের দুপাশের মাটি ধ্বসে পড়ছে। এসব সড়কে চলাচলকারী ভ্যান, ইজিবাইক, নসিমন করিমন, পাওয়ার ট্রিলারে প্রায়ই ১৫ টনের বেশি ওজনের পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে। হরহামেশায় ৩০ টনের বেশি ওজন নিয়ে চলছে মাটিবাহী ট্রাক্টর ও পণ্যবাহী ট্রাক। অতিরিক্ত ওজনের এসব যানবহন চলাচলে ম্লান হচ্ছে সরকারের গ্রামীন উন্নয়ন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য মতে, যশোরে গ্রামীণ সড়ক রয়েছে মোট ৩৯ হাজার ৩১৮ কিলোমিটার। উন্নয়ন হয়েছে মোট ২৭ হাজার ৬৬০ কিলোমিটার সড়ক। এর কার্পেটিং ২৬ হাজার ৬৩ এবং হ্যারিং, ইউনিব্লক, আর সি সি ঢালাই ও ইটের সলিং ১হাজার ৫৯৭ কিলোমিটার। আর মাটির সড়ক রয়েছে ১১ হাজার ৬৫৮ কিলোমিটার। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে সাড়ে ৮’শ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ এবং রক্ষনাবেক্ষণ হয়েছে। কার্পেটিং হয়েছে ১৯৬ কিলোমিটার, সংস্কার ১৮৫ হয়েছে কিলোমিটার, ইউনিব্লক ১০ কিলোমিটার, হ্যারিং আড়াই কিলোমিটার এবং আর সি সি ঢালাই ৭ কিলোমিটার। এলজিইডি জানিয়েছে, গ্রামীণ সড়কের ধারণ ক্ষমতা ১৫ টন। সড়কগুলোতে ২৫ যার ফলে গ্রামীণ সড়ক টেকসই হচ্ছে না মাটিবাহী ট্রাক্টরের কারণে নতুন তৈরি থেকে ৩০ টনের ঊর্ধ্ব ওজনের যানবাহন চলাচল করে। অধিক লোডে সড়কের দু’পাশ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। কার্পেটিং সড়কে মেয়াদ উত্তীর্ণের আগেই ফাটল ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর, মধুগ্রাম, পাঁচবাড়ীয়া, নঙ্গলপুর, কাশিমপুর রইলাপুর, এনায়েতপুর, বীর নারায়নপুর, কোদালিয়া, ফুলবাড়ী, লেবুতলা, ইছালি, যোগীপাড়া, কচুয়া, ফতেপুর গ্রামসহ যশোরের অধিকাংশ গ্রামীন সড়কের অবস্থা বেহাল। নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচল করায় নষ্ট হতে চলেছে এলজিইডির অধিকাংশ সড়ক। ইট ভাটা ও বিভিন্ন ডোবা ভরাট করার জন্য মাটি বহনকারী ট্রাক্টর ও মাটিকাটা (ভেকু) সড়কে চলছে দিনভর। যশোর সদর উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক বলেন, গ্রামীণ সড়কে মাটি বহনকারী ট্রাক্টরের বিষয়ে জেলার বিভিন্ন প্রোগ্রামে বলা হয়েছে। কিন্তু এখন তেমন কোন নির্দেশ পাইনি। আসল কথা হলো সড়কের উপর মাটি পড়লে বিটুমিনের স্থায়ীত্ব কমে যায়। নিয়মিত মাটিবাহী গাড়ি চললে সড়কের দু’পাশ ধসে পড়ার শংকা থাকে। আবার সড়ক বসে গর্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
যশোর সদর উপজেলার প্রকৌশলী আজিজুল হক বলেন, গ্রামীণ সড়কে মাটি বহনকারি ট্রাক্টরের বিষয়ে জেলার বিভিন্ন প্রোগ্রামে বলা হয়েছে। কিন্তু এখন তেমন কোন নির্দেশ পাইনি। আসল কথা হলো সড়কের উপর মাটি পড়লে বিটুমিনের স্থায়ী ক্ষমতা কমে যায়। নিয়মিত মাটিবাহি গাড়ি চললে সড়কের দু’পাস ধসে পড়ার আশংকা থাকে। আবার সড়ক বসে গর্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরের নির্বহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম, গ্রামীণ সড়কে ১৫ টন ওজন ধারণ ক্ষমতা থাকলেও সেখানে ট্রাকে ২৫-৩০ টন ওজন বহন করছে। এদিকে মাটির ট্রাকে তো একই অবস্থা। তবে সবার মাটির প্রয়োজন থাকে সে ক্ষেত্রে কম পরিমাণ নিয়ে ত্রিপলে ঢেকে নিলে এ সমস্য তৈরি হয় না। এ মাটি নেওয়ার ফলে বর্তমানে সব থেকে দুর্ভোগ হচ্ছে জনগনের। কারণ বৃষ্টি হলে কাদায় মানুষ চলাচল করতে পারে না। এদিকে কার্পেটিয়ের সড়কে মাটি পড়ে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে কাদামাটিতে বিটুমিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এগুলো সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মেম্বার বন্ধ করতে পারে।
যশোর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার রিপন বিশ্বাস, ইতিপূর্বে আমরা কচুয়া ইউনিয়ন থেকে ৫টি মাটি বহনকারী ট্রাক্টর আটক করে মামলা করছি। বর্তমানে মামলা চলমান রয়েছে। তবে ইউনিয়নের চেয়াম্যান ও মেম্বর একটু নজর রাখলে এ গাড়িগুলো চলাচল করতে পারে না। সব স্থানে আমরা যেতে পারি না, কারণ ঐ দিন অফিসের কাজ তেমন করা সম্ভাব হয় না। এজন্য ইউনিয়নের ইউপি সদস্যরা নজর রাখলে হয়। সড়কগুলোয় মাটিবাহি ট্রাক্টর চলাচল বন্ধে অভিযান চলমান আছে।

































Discussion about this post