সোনারগাঁ(নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার সুনামধন্য রেষ্টুরেন্ট কলাপাতার মালিক মমিনুল মোমেন শিকদারকে কর্মচারীদের সাথে অসদ আচারণ ও ক্যাশ থেকে হিসাবে বর্হিভূত অর্থ লুটের অভিযোগ তুলে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কলাপাতার দুই অশিংদার মাহবুব মামুন শিকদার ও মোতাহার মাসুম শিকদারের পক্ষে নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজিবী মো. মেহসিন হাসান দিপু এ লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্তির তিনদিনের মধ্যে তার মোয়াক্কেলগণের বরাবর লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় কলাপাতা থেকে বাদ দেওয়াসহ আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিগ্যাল নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১০সালে কলাপাতা রেষ্টুরেন্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। ২০২১সালের ২৮ফেব্রæয়ারী ৩শ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিনামা করে যৌথভাবে চার ভাই মমিনুল মোমেন শিকদার, মাহবুব মামুন শিকদার, মোতাহার মাসুম শিকদার,মহসীন মুকুল শিকদার, বোন আলেয়া শিকদার ও মাহফুজা শিকদার মুন্নি পরিচালনা করে আসছে। পরবর্তীতে মোমেন শিকদার, মাসুম শিকদার ও মামুন শিকদার যৌথভাবে পুনরায় চুক্তিপত্রে আবদ্ধ হন। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১লা জানুয়ারী নতুন উদ্যোগে পরিচালিত হয়।সেখাতে মোমেন শিকদার ৩০শতাংশ ও অন্যান্যরা ৭০শতাংশ বিনিয়োগ করেন। সেখানে মোমেন শিকদারকে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অন্যান্যরা ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
লিগ্যাল নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়, মমিনুল মোমেন শিকদার প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ হতে হিসাব বর্হিভূতভাবে টাকা গ্রহন করে আত্মসাৎ করেন। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বিনা ডকুমেন্টে টাকা দিতে অস্বীকার করায় গালিগালাজ করে মারধর করে অর্থ নিয়ে যান। লোক পাঠিয়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টি চুক্তি বর্হিভূত। এতে করে পরিচালকরা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
মমিনুল মোমেন শিকদার নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী সাংসদ একেএম শামীম ওসমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের প্রভাবে কলাপাতা ব্র্যান্ড রেজিষ্ট্রেশন করতে নিজের নাম অন্তর্ভূক্ত করেন। এছাড়াও মাসুম শিকদার ও মামুন শিকদারকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেন।
মমিনুল মোমেন শিকদার প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অশীংদার থেকে বাদ যাইবে না বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাইবে না নোটিশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে অংশীদারদের লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কলাপাতা রেষ্টুরেন্টের পরিচালক মোতাহার মাসুম শিকদার বলেন, মোমেন শিকদার আওয়ামীলীগের দোষর হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনীতি করে গেছেন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর নিজেকে ভোল পাল্টিয়ে বিএনপি নেতা বনে গেছেন। শেখ হাসিনার শাসন আমলে প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপিদের সঙ্গে তার সখ্যতা রয়েছে। তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক রয়েছে।
মমিনুল মোমেন শিকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, লিগ্যাল নোটিশ আমি পাইনি। কলাপাতা রেষ্টুরেন্টের ক্যাশ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্যি না৷ নোটিশ পেলে জবাব দেওয়া হবে।

































Discussion about this post