নিয়ন মতিয়ুল
কদিন আগে ‘দেশে স্মার্ট সম্পাদক নেই’ শিরোনামে পোস্ট দিয়েছিলাম। লেখাটি পড়ে সাংবাদিকতায় অতিপ্রিয় বড় ভাই ফোন দিয়ে বললেন, “নিয়ন, এসব যে লিখছো, চাকরি তো পাবে না। ”হেসে বললাম, “চাকরি পাব না, নিশ্চিত হয়েই তো লিখি ভাই। ” তবে কমেন্টে এ সময়ের মেধাবী সম্পাদক লুৎফর রহমান হিমেল ভাই লিখেছেন, “সময়ের ঋণ, লিখে যান। কাউকে না কাউকে তো লিখতে হবে। কেউ তো লেখে না। আপনি লিখছেন। সাধুবাদ।”
বছর কয়েক আগে প্রথম এক মেধাবী কলিগ বলেছিলেন, “ভাই, এসব লেখা অনেকে নিতে পারবে না। চাকরি পেতে সমস্যা হবে। ”বলেছিলাম, “যারা চাকরি দেন, তারা এলিট। এসব পড়েনও না, মাথাও ঘামান না।” গেল রাতে সাবেক সহকর্মী সোহেল আলাপ শেষে বললেন, “ভাই, আপনার লেখাগুলো দারুণ। অনেকেই পড়ে, আলোচনাও হয়। ”বললাম, “আমি তো ভাবছি আর লিখব না।“অবাক হয়ে বলল, “ভাই, লেখা থামাবেন না। আরও লিখবেন।”
“সংবাদমাধ্যমে নিয়োগে দম নয় ব্র্যান্ডে আস্থা” শিরোনামের পোস্টে প্রিয়ভাজন রাজ্জাকের প্রশ্ন, “সংবাদমাধ্যম ছাড়া দুনিয়ায় আর কিছু কি লেখার নেই?”এই প্রশ্নটি দারুণ। এই সময়ে শত শত ইস্যু আছে যা নিয়ে লেখা, প্রশ্ন তোলা অতি জরুরি। তবে দিনশেষে কিন্তু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছেড়ে মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতেই ভরসা করে। তো সেই মিডিয়াই আস্থা আর বিশ্বাসের জায়গায় দাঁড়াতে না পারে, তাহলে ব্যক্তিগত লেখা লিখে কী লাভ?
পর্যবেক্ষণে দেখছি, মিডিয়ার ভুল, ব্যর্থতা, পরিকল্পনাহীনতা, দলদাসত্ব সম্পর্কে আগের চেয়ে কমিউনিটিতে বেশি আলোচনা হচ্ছে। এমনকি আমজনতাও মিডিয়ার চরিত্র নিয়ে নির্ভয়ে মারাত্মক প্রশ্ন তুলছে। প্রকৃত সাংবাদিকতা কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে খোদ পাঠকরাও পরামর্শ দিচ্ছেন। তাই সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক পাবলিক করার মধ্যে কোনো দোষ নেই। সাংবাদিকরা অনবরত অন্যের দোষ দেখতে দেখতে নিজের দিকে ফিরে তাকানোর কথাই ভুলে যান। এসব লেখা তাদের আত্মসমালোচনার সুযোগ বাড়িয়ে দেবে, দিচ্ছে।
দেশের সাংবাদিকতা পুরোটাই এলিটনির্ভর। বেশিরভাগ সম্পাদক বা পলিসি মেকাররা সামন্তযুগের রাজকবিদের মতো। তাদের পরিচালিত সংবাদমাধ্যম ব্যবস্থাপনা ঔপনেবেশিক মডেলের। প্রেসক্লাব বা সাংবাদিক সংগঠনগুলো সাংবাদিকতার আধুনিকতা বিকাশে অন্তরায়। যে কারণে তারা ব্র্যান্ডনির্ভর। পিতৃপুরুষের গদবাঁধা দৃষ্টিভঙ্গি আর রাজনীতির বাইরে তরুণদের সৃজনশীলতা বিকাশে তাদের অবদান খুবই সামান্য। অথচ গোটা দেশের সুশাসন, গণতন্ত্রের বিকাশে, সুরক্ষায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য।
সাংবাদিকতার দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করার অর্থ বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানকে আপনি প্রশ্ন করছেন, ভেঙে ফেলতে চাইছেন। তাই বিদ্যমান কাঠামোতে যারা সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, তারা আপনাকে চাকরি দিয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে আনবেন কেন? তবে যারা প্রকৃত সাংবাদিকতার অঙ্গীকার করেছেন, তারা যে কোনো পরিস্থিতিতে যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন তুলবেনই, সেটাই তাদের জব।
























