সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি ও প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে ‘অবৈধ গ্যাস’ সংযোগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া জাতীয় পার্টির নেতা কাজী নাজমুল ইসলাম লিটু।
গত ২ ফেব্রুয়ারি মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইক্কারটেক এলাকায় বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্বাচনী সভায় দেওয়া তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা জাতীয় যুবসংহতির সাবেক আহ্বায়ক কাজী নাজমুল ইসলাম লিটু তার বক্তব্যে স্পষ্ট ঘোষণা করেন, বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হলে এলাকায় বৈধ-অবৈধ সব ধরনের গ্যাস সংযোগই বহাল থাকবে। তার ভাষায়, “আজহারুল ইসলাম মান্নান নির্বাচিত হলে… কাইক্কারটেক এলাকাও অবৈধ গ্যাসের আওতায় থাকবে।” আইনপ্রণেতা নির্বাচনের প্রচারমঞ্চ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির এমন উসকানিমূলক ঘোষণায় হতবাক স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নাজমুল ইসলাম লিটু বিগত সরকারের আমলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাইক্কারটেক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কয়েক হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদান করেছেন। এসব সংযোগ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের পুরোনো সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখতে এবং আইনি ব্যবস্থা থেকে বাঁচতেই তিনি দল পরিবর্তন করে এখন একই ধরনের অপরাধের আশ্বাস দিচ্ছেন।
একজন রাজনৈতিক নেতার প্রকাশ্যে অবৈধ গ্যাস সংযোগের প্রতিশ্রুতিকে ‘ফৌজদারি অপরাধ’ হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞরা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যেখানে সরকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, সেখানে এই ধরনের বক্তব্য সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা।
সরকারি সম্পদ লুটপাট ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এই নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে দল পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি কোনো ‘রক্ষা কবজ’ পাচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।























