শফিকুল ইসলাম শামীম,গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
গার্মেন্টস শ্রমিকদের নূন্যতম বেসিক ১৬ হাজার এবং ২৪ হাজার টাকা মোট মজুরীসহ ৬ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ।
বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে,আজ সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন, শ্রমিক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন। বক্তব্য রাখেন, রফিকুল ইসলাম সুজন, বাহারাইনে সুলতান, কাজী মোহাম্মদ আলী, কামরুন নাহার, তপন সাহা, শফিকুল ইসলাম শামীম, শফিকুল ইসলাম, গোলাম কাদির, গোলাম রাব্বানী জামিল, আব্দুল্লাহ বাছির, আসাদ্জ্জুামান চৌধুরী, কাজী আবীর হোসাইন, রেহানা আক্তার ডলি, জাহাঙ্গীর মোল্লা, মোঃ মিলন,শফিউল আলম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরে ২০১৮ সালের শেষে সর্বশেষ মজুরি ঘোষিত হয়েছিল। ইতিমধ্যে পাঁচ বছর শেষ হতে যাচ্ছে। এই পাঁচ বছরে দ্রব্যমূল্য ও গার্মেন্টসের রপ্তানি দুটোই বিপুল পরিমাণে বেড়েছে। কিন্তু বাড়েনি শ্রমিকের মজুরি। ফলে জীবন মানের উন্নয়ন তো দূরের কথা প্রয়োজনীয় খাদ্য কেনার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে শ্রমিকেরা।
বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৩৯ ধারা অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নিম্নতম মজুরি নির্ধারনের বিধান এবং ১৪০ (ক) ধারায় বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুনভাবে মজুরি কাঠামো ঘোষণার বিধান আছে। কিন্তু কোন আইনের সুফলই গার্মেন্টস শ্রমিকরা পাচ্ছে না। ইতিমধ্যে শুধু গার্মেন্টস শ্রমিকরাই নয়, সরকারি কর্মচারী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শিল্প সেক্টরের শ্রমিকরা মজুরি পুনঃনির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে।
এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরের অধিকার বঞ্চিত শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে দেশের দায়িত্বশীল শ্রমিক সংগঠনের জোট হিসেবে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ’ গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি ও ২০২৩ সালের গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য তাদের প্রস্তাবিত ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নূন্যতম দাবিসমূহ- ১. অবিলম্বে মজুরী বোর্ড গঠন ও বেসিক ১৬ হাজার মোট ২৪ হাজার নূন্যতম মজুরী ঘোষণা। ২. গার্মেন্ট শ্রমিকদের বার্ষিক ১০% ইনক্রিমেন্ট ঘোষণা করতে হবে। ৩. গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য স্বল্পমূল্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ৪. নূন্যতম মজুরী বোর্ডে অভিজ্ঞ সেক্টরল শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। ৫. গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৬ মাসের মাতৃকল্যাণ ছুটির আইন পাশ করতে হবে। ৬. বাংলাদেশ শ্রম আইনের সকল কালাকানুন আইন বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন করতে হবে।
উল্লেখিত, ৬ দফা দাবি আদায়ে আগামী ২৬ শে ফেব্রুয়ারি শ্রম প্রতিমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি পেশ করা হবে।

































Discussion about this post