জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের মেলান্দহের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)’র উপ-সহকারী পরিচালক (সার) খন্দকার মো. আশরাফুল আলম এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ করেছে গুদামে দায়িত্বরত শ্রমিকরা।
আজ বুধবার দুপুরে মেলান্দহ সার গুদামে এ বিক্ষোভ মিছিল করেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। পরে সার গুদামের সামনে থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে তা শিমুলতলা হয়ে পূণরায় গুদামের সামনে এসে শেষ হয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন, সার গুদামের সর্দার শ্রমিক মুখলেছ, শ্রমিক মোহাম্মদ মন্নান ও রহিম মিয়া।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কর্মকর্তা খন্দকার আশরাফুল আলম প্রতি মেমো/ ডিও কর্তন বাবদ দুই থেকে তিনশত টাকা, টিএসপি প্রতি বস্তা একশ থেকে একশত বিশ টাকা, ডিএপি চায়না ষাট টাকা, এমওপি কানাডা ত্রিশ থেকে চল্লিশ টাকা সেলামি নেন। অতিরিক্ত লোক নিয়োগ দিয়েছেন তার জন্য প্রধান লরি বাবদ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও তিনি পঁচা সার জোর পূর্বক শ্রমিকদের দিয়ে ট্রাকে করে ডিলারদের দেন। এসব টাকা লেনদেন নিয়ে প্রতিনিয়ত ঝগড়া লেগেই থাকে। শ্রমিকদের সাথে প্রতিনিয়ত খারাপ ব্যবহার করেন। নিজে বিভিন্নভাবে ঘুষ গ্রহণ করেন ও শ্রমিকদের ঘুষ গ্রহণে বাধ্য করেন। অথচ শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ঠিকমতো দেন না তিনি । কিছু দিন আগে উধর্বতন কতৃপক্ষের অনুমোতি ছাড়াই নিজ কক্ষে এসি স্থাপন করেছিলেন। তিনি বহিরাগত আত্মীয় দিয়ে গুদামের সার লোড-আনলোডসহ ডেলিভারীর কাজ করান। অথচ নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যাক্তিকে রহস্যজনক ভাবে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখেন। মেলান্দহ বিএডিসির দুর্নীতিবাজ এ কর্মকর্তার পদত্যাগ ও তদন্ত পূর্বক শাস্তি দাবী করেন বক্তারা।
মেলান্দহ (বিএডিসি)’র উপ-সহকারী পরিচালক (সার) খন্দকার মো. আশরাফুল আলম বলেন, সার কখোনই পঁচা হয় না। ভালো সার আমরা দিয়ে থাকি। আর কোন অবস্থাতেই এইখানে বাড়তি টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। সব ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
মেলান্দহ (বিএডিসি) এর সহকারী পরিচালক, মো: শওকত আলী বলেন, শেষ দিকের সারগুলো একটু ধলা আকারের দেখা যায়। ভাংতে কষ্ট হয়।কেউ নিতে চায় না। তবে সার পঁচা না। তবে এইখানে বাড়তি কোন টাকা আশরাফুল নেয় না বলেই জানি। শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবী করেছে আমার কাছে। আমি বলেছি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্ত এর আগেই তারা বিক্ষোভ করছে।

































Discussion about this post