পুরস্কার পেল আহত মুরগিকে হাসপাতালে নেয়া সেই শিশু

ভারতের মিজোরাম রাজ্যের ছয় বছর বয়সী শিশু ডেরেক তার সাইকেলে আঘাতপ্রাপ্ত একটি মুরগিছানাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়ার পর খবরের শিরোনামসহ প্রশংসিত হয়েছিল। মানবিকতার এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় তাকে পুরস্কৃত করেছে তার স্কুল কর্তৃপক্ষ। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

মিজোরামের সাইরাঙের বাসিন্দা ছোট্ট ওই শিশুটির নাম ডেরেক সি লালছানহিমা। বাইসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ অসাবধানতাবশত একটি মুরগিছানার উপর দিয়ে চলে যায় তার সাইকেল। সাইকেলের চাকায় পিষে ঘটনাস্থলেই মুরগিছানাটির মৃত্যু হয়।

কিন্তু ছয় বছরের ছোট্ট ওই শিশুটি হয়তো ভেবেছিল মুরগিছানাটি আঘাত পেয়ে আহত হয়েছে। আর তাই মুরগিছানাকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছে সে। নিজের কাছে থাকা দশ টাকার একটি নোট নিয়ে ‘আহত’ মুরগিছানাটি সে হাসপাতোলে নিয়ে যায়। কিন্তু সেটিকে বাঁচাতে পারেনি সে।

যেখানে রাস্তায় পড়ে থাকা অসুস্থ মানুষকে সাহায্য না করে পাশ কাটিয়ে চলে যান অনেকেই, যেখানে গাড়ির ধাক্কায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা মানুষের মৃত্যুর পরেও নির্লিপ্ত থাকে লোকজন, সেখানে ছোট্ট সেই শিশুর মানবিকতা আর সরল মনে করা কাজ ছুঁয়ে যায় সবাইকে।

শিশুটির এমন মানবিক কাজের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে দিয়েছে ‘ওয়ার্ড অব অ্যাপ্রিশিয়েসন’ লেখা একটি প্রশংসাপত্র। ডেরেকের স্কুলের শিক্ষকরা তার প্রশংসা করেছেন। পুরস্কার পাওয়ার প্রশংসাপত্র হাতে শিশুটির ছবি বৃহস্পতিবার আবারও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এক হাতে মুরগিছানা অন্যহাতে দশ টাকার নোট নিয়ে শিশুটি হাসপাতালে ঢুকে এক নার্সকে সবকিছু খুলে বলে। তার কথা শুনে নার্সের মন ছুঁয়ে যায়। ভাইরাল হওয়া ছবিটা ওই নার্সই তুলেছিলেন। সেটাই এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। নার্সের তোলা ওই ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন ডেরেকের প্রতিবেশী সাংমা।

মুরগিছানাটা যে আর বেঁচে নেই সেটা অবশ্য প্রথম দেখাতেই বুঝে যান ডেরেকের বাবা। কিন্তু ছেলের চেষ্টায় বাধা দিতে চাননি। তার পরামর্শেই ডেরেক বাড়ির কাছেই একটি হাসপাতালে মুরগিছানাটাকে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য। সঙ্গে নিতে ভোলেনি তার সঞ্চয়ের দশ টাকার নোটটিও।

মুরগিছানাটি যে আর বেঁচে নেই তা মানতে নারাজ ডেরেক কেউই চিকিৎসা করছেন না দেখে, কাঁদতে কাঁদতে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে আসে। বাবার কাছে আবদার করে একশ টাকার একটি নোট নিয়ে আবার হাসপাতালে যায়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সত্যিটা বলে দেন তার বাবা। ডেরেক বুঝতে পারে মুরগীছানাটি আর বেঁচে নেই।

ফেসবুকের পোস্ট হওয়া এই ঘটনা সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। একজন লিখেছেন, ‘তার খাঁটি এবং সৎ হৃদয়ের উপর ঈশ্বরের আশীর্বাদ ঝরে পড়ুক।’ কেউ তার মধ্যেই ঈশ্বরকে দেখেছেন আবার কেউ লিখেছেন, ‘আমাদের সকলেরই ওর থেকে শেখা উচিত।’

Leave a Reply