আরিফ হোসাইন,ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ্ এর এই আধ্যাত্মিক বাণীর স্লোগানে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) থেকে শুরু হয়ে এ উৎসব চলবে শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারী ) পর্যন্ত। বাউল সম্রাট লালন শাহ্ তার জীবদ্দশায় পিতৃভূমি হরিশপুরে প্রতি বছর বাউলদের নিয়ে সাধুসঙ্গ উৎসব করতেন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক তার মৃত্যুর পরও এ উৎসব চালিয়ে আসছেন তার অনুসারীরা।
এবারও জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় লালন একাডেমি তিন দিনের এ লালন স্মরনোৎসবের আয়োজন করেছে। ইতোমধ্যে উৎসবকে ঘিরে হরিশপুরে লালন গুরু সিরাজ সাঁইজির মাজার প্রাঙ্গণে চলছে উৎসব ও গ্রামীণ মেলার প্রস্তুতি। সেইসঙ্গে ১বছর পরে সাধু ভক্তরা লালন পিতৃভূমিতে আসতে পেরেছে বলে খুঁশি তারা। তিন দিনের আয়োজনে সাধুদের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে আয়োজকরা। উদ্বোধনী দিন থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে লালন মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা এবং পরে বাউল গানের আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) প্রথম দিনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম। সভাপতিত্ব করেন জনাব সাইদুল করিম মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ঝিনাইদহ জেলা। উপস্থিত আছে,নাসির শাহরিয়া জাহেদী মহল,বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রেডিয়ান ফার্মাসিটিক্যাল ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আর উপস্থিত ছিলেন। স্মমিতা সাহা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, হরিণাকুন্ড, ঝিনাইদহ। উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর হোসাইন, উপজেলা চেয়ারম্যান, হরিণাকুন্ড, ঝিনাইদহ। উপস্থিত ছিলেন ফারুক হোসেন, পৌরসভার মেয়র হরিণাকুন্ড, ঝিনাইদহ। আরও উপস্থিত ছিলেন সাধুগুরুরা।
শুক্রবার( ১৭ ফেব্রুয়ারী) দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাননীয় সংসদ সদস্য ঝিনাইদহ-২ জনাব তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি। (১৮ ফেব্রুয়ারী) শেষ দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা পুলিশ সুপার জনাব আশিকুর রহমান ( বিপিএম পিপিএম বার)। তিন দিনের এই আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও লালন একাডেমির সভাপতি মনিরা বেগম। সেই সঙ্গে উৎসব চলাকালীন সময়ে প্রতিদিন আলোচনা সভা শেষে দেশ বরেণ্য লালন গানের শিল্পী, লালন একাডেমির শিল্পীসহ গুণী সংগীত শিল্পীরা গান পরিবেশন করবেন বলে জানা গেছে। হরিণাকুন্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামেই ছিল বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ্ এর প্রধান অবস্থান এবং এখানেই তিনি জীবনের অনেক সময় কাটিয়েছেন। তবে বর্তমান সেখানে অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। সাধারণ জনগণের একটাই চাওয়া এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যোন লালন সাঁইজির মনে রাখে আজীবন।
























