সোনারগাঁ(নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পিকআপভ্যান চাপায় স্বামী বাবুল মিয়া ও স্ত্রী শ্যামলি আক্তার সুমির মৃত্যু ঘিরে রহস্য উদঘাটনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূর মহসীনের আদালতে এ পিটিশন মামলা দায়ের করেন। যাহার নং ৯৯/২৫। নিহতদের ভাতিজা মো. হানিফ বাদি হয়ে এ পিটিশন মামলা দায়ের করেন। বাবুল মিয়া ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় কোন প্রকার মামলা বা অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে কিনা তা জানতে চেয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এদিকে মামলা দায়েরের পর গত শনিবার দুপরে বাদি হানিফ মিয়ার বাড়িতে লাঠিসোটা নিয়ে প্রবেশ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে পিটিশন মামলার আসামীরা। এ ঘটনায় রোববার সকালে সোনারগাঁ থানায় ৫জনকে বিবাদী হয়ে সাধারণ ডায়েরী করেন হানিফ মিয়া।
আদালতে দায়ের করা পিটিশনে বাদি মো. হানিফ মিয়া উল্লেখ করেন, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মিরেরবাগ গ্রামের বাবুল মিয়াকে একটি এনজিও থেকে ঋণ তুলে দেওয়ার কথা বলে তার পৈত্রিক সম্পত্তি জালিয়াতি করে লিখে নেন ভাগিনা পলাশ মিয়া। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মোকদ্দমা হয়। গত ২৪ ফেব্রæয়ারী সোমবার সকালে বাবুল মিয়া বিরোধকৃত পুকুর থেকে মাছ ধরতে গেলে জামপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ মিয়া তালতলা ফাঁড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে তাকে ধাওয়া দেয়। পুলিশের ধাওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে সারাদিন আত্মগোপনে থাকে। জমি সংক্রান্ত ঝামেলা এড়াতে তিনি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। পরে রাত ১০টার দিকে আসবাবপত্র নিয়ে ভাড়া বাসায় যাওয়ার পথে মালিপাড়া এলাকায় তাদের বহনকারী ভ্যানকে একটি পিকআপ ভ্যান চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এঘটনায় ওই দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাবুল মিয়া ও পরদিন তার স্ত্রী শ্যামলী আক্তার সুমির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওইদিন থেকে পলাশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের মৃত্যুর পর ধর্মীয় রীতিনীতিসহ সকল কার্যক্রম সে নিজে করছেন। আমাদের পরিবারকে কোন কিছু করতে দিচ্ছে না। তাদের মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের কাজে দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।
নিহত বাবুলের ভাতিজা হানিফ মিয়া বলেন, তার আপন চাচা বাবুল মিয়া। মৃত্যুর দিন সকালেও তার চাচাকে সম্পত্তি বিরোধে পুলিশী হয়রানী করেছে পলাশ। রাতে পিকআপ ভ্যান চাপায় তারা স্বামী স্ত্রী মারা যান। পলাশের ভূমিকা নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে মামলা দায়ের করেছি। আসল ঘটনা আমাদের জানা দরকার।
জামপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ দিয়ে ধাওয়ার দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তাদের মৃত্যুর সঙ্গে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের হয়রানী করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারী বলেন, আদালতের পিটিশনের একটি প্রতিবেদনের চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তবে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
























