তফসিল ঘোষণা না হলেও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পৌরসভাতে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। কে হচ্ছেন মেয়র প্রার্থী তা নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা। যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার জন্য ভোটাররাও বেশ উৎসাহী। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় শুভেচ্ছা বিনিময় ও ভোট প্রার্থনা করছেন।
মনোননয়ন পেতে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মাঠে রয়েছেন। তবে নির্বাচনে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক উপ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন। তিনি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিশাল বিশাল মিছিলের মাধ্যমে প্রচারনা করে বেশ আলোচনা কেন্দ্র বিন্দুতে চলে এসেছেন। আগামী নির্বাচনে পৌরসভার জনগণ তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।
জানা গেছে, সোনারগাঁও পৌরবাসীর কাছে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে দলমত নির্বিশেষে ব্যাপক পরিচিতি মুখ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, ছাত্রলীগের হাত ধরেই যার রাজনৈতিক জীবন শুরু, সেই হাস্যোজ্জ্বল ও মিষ্টভাষী ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন নৌকা প্রতীকের লড়াইয়ে নেমেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর থেকে ওঠে আসা নেতৃত্ব এখন সোনারগাঁও পৌরবাসীর আশা আখাঙ্খার প্রতীক হয়ে ওঠেছেন।
তারা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে পদার্পণ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইনের। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গনযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক উপ-সম্পাদক হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পৌরসভায় সরকারি কলেজ, সরকারি ল্যাইব্রেরি স্থাপন করে শিক্ষা বিস্তার, মাদকমুক্ত, সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, বিশুদ্ধ খাবার পানির সুব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, লাইটিং, রাস্তাঘাট উন্নয়ন সহ সকলের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণের মাধ্যমে সোনারগাঁও পৌরসভা একটি আধুনিক পৌরসভায় উন্নীত করবেন। এ জন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।
উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন ২০০৬ সালে মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি বিদ্যায়তন থেকে জিপিএ ৫.০০ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। ঢাকার উত্তরায় স্বনামধন্য হলি চাইল্ড কলেজ থেকে ২০০৮ সনে জিপিএ ৫.০০ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ২০০৯-২০১০ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনষ্টিটিউট অফ লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি তে (বি.এস.সি ইন ফুটয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগে ভর্তি হয়ে সাফল্যের সাথে (বি.এস.সি ইন ফুটয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং) পাশ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি ডিপার্টমেন্টে এম এস এস এ ভর্তি হোন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও তিনি শুরু করেন ছাত্র রাজনীতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেহেদী-শরীফ কমিটিতে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। লেদার ইনষ্টিটিউট ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে রাজনীতি করার পর মেহেদী – শরীফ কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত করেন।
লেদার হোসাইন হিসেবে খ্যাত ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন ২০১৩,২০১৪ সালে বিএনপি জামাত শিবিরের জ্বালাও পোড়াও রাজনীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।২০১৪ সালে বকশি বাজারে ছাত্রদলের মিছিলে আক্রমন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লার নজরে আসেন হোসাইন। পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক দক্ষতায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ ও জাকির হোসেনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে উপ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হোন ।
কেন্দ্রীয় কমিটি স্থান করার পর ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন ছাত্রলীগের সব প্রোগ্রামে সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। তারই ফলসূতিতে তাকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। সাংগঠনিক দ্বায়িত্ব পাওয়ার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরাচরিত সাটল ট্রেনের ছাত্র রাজনীতি থেকে হল কেন্দ্রীক রাজনীতিতে আনতে বেশ কয়েক বার চট্টগ্রামের ছাত্র রাজনীতির অভিভাবক মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মেয়র আ.জ.ম নাসির এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেন। ঢাকা সিটি নির্বাচন, কুমিল্লা সিটি নির্বাচন, গাজীপুর সিটি নির্বাচন, নারায়ণগন্জ সিটি নির্বাচন, নাসির নগর উপ-নির্বাচন, ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তারই ফলসূতিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সফল সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ নারায়ণগন্জ জেলার কৃতীসন্তান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইনকে ঢাকা বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রার্থী করেন।
সোনারগাঁয়ের এই কৃতি সন্তান পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গনযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক উপ-সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হোন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা হবার পর থেকেই সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করতে থাকেন। সোনারগাঁয় আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক কমিটির সাথে সোনারগাঁ পৌরসভা ছাড়াও সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রোগ্রাম করে থাকেন এবং ব্যাপক পরিচিত লাভ করেন।
করোনা ভাইরাসকালীন সময়ে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন একজন বীরযুদ্ধার মতো সোনারগাঁও পৌরসভায় কাজ করে গেছেন। সোনারগাঁয়ে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হওয়ায় সময়ে তিনি বলেছিলেন-দেশের পরিস্থিতিভালো না তাই আমি সবাইকে হাতজোড় করে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি দয়াকরে সবাই ঘরে থাকুন এবং কেউ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হবেন না।
করোনা ভাইরাসের লকডাউনের সময়ে দিনমজুর, খেটে-খাওয়া, নিম্ন-আয়ের, অসহায়, সাধারণ মানুষ যখন বিপাকে পড়েছে তখন তাদের সহযোগীতা করেছিলেন মানবিক মানুষ হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন। তিনি বলেন আমি যতটুকু সম্ভব, কোন প্রচার প্রচারণা ছাড়াই রাতের আধারে অসহায়, গরীব মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং এ দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সেবা করে তাদের পাশে থাকেছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আসসালামুআলাইকুম।
























