ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি:
জাতির পিতার ৪৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কোভিড-১৯ এ কর্মহীন, দুঃস্থ ও নেতৃবৃন্দের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে আমার রাজ্জাক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ডামুড্যা উপজেলা যুবলীগ এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠন।
রোববার (০১ আগস্ট) সকালে শরীয়পুরের ডামুড্যা উপজেলায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাহিম রাজ্জাক এম.পি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন মাঝি, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ গোলন্দাজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজা খানম লাভলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাষ্টার কামাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাবলু সিকদার, পৌর মেয়র রেজাউল করিম রাজা ছৈয়াল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আমার রাজ্জাক সংগঠনের সদস্য মেহেদি হাসান রুবেল মাদবর, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আমার রাজ্জাক সংগঠনের সদস্য কামরুল হাসান মন্টি মাঝি, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বিএম সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শামীম সহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও আমার রাজ্জাক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করেন আমার রাজ্জাক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
এদিকে শুরু হয়েছে শোকাবহ আগস্ট মাস। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড ছুঁড়ে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল জাতির জনকের কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী, আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।
আগস্টের কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন।
সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানির নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যেকোন জঘন্য কাজ করতে পারে।
ভারত বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ শ্রী চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।
‘দ্য টাইমস অব লন্ডন’ এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ করা হয়, সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ, তাকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই।
একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়, বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।
শরীয়পুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর করে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। একইভাবে বাঙালির আত্মঘাতী চরিত্রের অপবাদেরও অবসান ঘটেছে।
























