মনিরুজ্জামান মনির,যশোর প্রতিনিধি:
যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন জেলা এবং রহিঙ্গাদের অবৈধ ভাবে জন্মনিবন্ধন করার অভিযোগে যশোর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে আজ রোববার সকাল ১১ টায় দুজনকে আটক করেছেন পুলিশ।
এরা হচ্ছে লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা গহেরপুর গ্রামের শেমল দাশের ছেলে শুভাশিষ বিশ্বাস শুভ এবং লেবুতলা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে রাহাত হোসেন নিশাদ। বর্তমানে তাঁরা পুলিশের হিফাজতে আছে বলে নিচ্ছিত করেছেন উপজেলার নির্বাহী অফিসার রিপন বিশ্বাস।
এলাকার মানুষ অভিযোগ, শুভাশিষ বিশ্বাস শুভ ও রাহাত হোসেন নিশাদ চেয়ারম্যান আলিমুজ্জামান মিলনের খাস লোক। এরা দু’জনই রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। বর্তমানে এদের ভয়ে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ পরিষদে আসতে চাইনা। এদের ব্যবহারে মনে হয় এরাই চেয়ারন্যান এবং সচিব। এদের বিরুদ্ধে কিছু বললে চেয়ারম্যান বিভিন্ন কৌশলে তাদেরকে দমন-পিড়ন করে রাখে। আবার রহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধনও করছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। এক এক জনের নিকট হতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে নিয়েছে বলেও জানায় এলাকা মানুষ। কারণ এরা ইউনিয়নের প্রতিটা মানুষের নিকট হতে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা নেই এবং তিন’চার মাস করেও ঘোরাই এ জন্মনিবন্ধন কার্ড তৈরি করতে।
লেবুতলা গ্রামের রিয়াল হোসেন জানান, ৪’শ ৪০ জন রহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন করে দিয়েছে শুভ আর রাহাত। অথচ আমরা দেখছি জুন মাস ধরে চেয়ারম্যান সাহেব পরিষদে আসেন না। এগুলো সবই চেয়ারম্যানের নেতৃত্যে শুভ আর রাহাত স্বাক্ষ জাল করে করে। ৫০টি টিসিবির কার্ডের চাল ও তৈল দু’জনে ভাগ করে নিয়েছে। অসহায় মানুষের নিকট হতে জন্মনিবন্ধন কার্ড করতে এক হাজার থেকে পনের’শ টাকা করে নেই। আজ দেখছি সকালে ইউনো স্যার আসার সাথেই অনেকে এদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করছে। রহিঙ্গাদের নিকট হতে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে এ জন্মনিবন্ধন করেছে। আবার এদের ভোটার আইডি কার্ডও করে দিবে এমন ব্যবস্থাও করছে বলে ইউনো স্যার আমাদের দেখিয়েছে। এসব কারণে এদের ধরে নিয়ে গেছে
আব্দুল হান্নান জানান, আজকে সকালে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে স্যারেরা এসে শুভ আর রাহাতকে ধরে নিয়ে গেছে। এরা নাকি টাকার বিনিময়ে রহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন করে। এসব হয়েছে চেয়ারম্যানের পাওয়ারে।
জামিরুল ইসলাম জানান, শুভ আর রাহাত জন্মনিবন্ধন কার্ড তৈরির অবৈধ টাকার পাহাড় করেছে। এদের পরিবারে কয়েকদিন আগে কিছইু ছিলো না। আজ তাদের আলিশান বাড়ী। আমার কোরনার সময় শ্রমিকদের সরকার ২৫’শ টাকা দেয়। আর শুভকে দেখালে তা উঠিয়ে নেই। এমন বহু মানুষের টাকা আত্মসাৎ কওে নিয়েছে।
লেবুতলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাহবুর রহমান জানান, লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদ সরকারি কোন নিয়মে চলে না। এ পরিষদ নিজেদের মত আইন তৈরি কওে চলে। রহিঙ্গাদের হতে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবৈধ ভাবে জন্মনিবন্ধ করছে চেয়ারম্যানের নেতৃত্যে শুভ আর রাহাত। এই শুভ কয়েক বছর আগে মটর সাইকেল চুরি করে ধরা পড়ে। অথচ এ চোরকে রাখছে পরিষদে। আমি ১ লাখ টাকার প্রকল্প পাই। সেখান থেকে আমাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বলে বাকি টাকা সরকারি ভ্যাটে কাটছে। এদিকে এই শুভ আর রাহাত জন্ম নিবন্ধন করার জন্য প্রতিটা মানুষের নিকট হতে এক থেকে তিন হাজার টাকা করে নেই। এ সমস্ত কু-কর্মের কারণে আমি ইস্তফা দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আসলে আমাদের ইউনিয়নে রহিঙ্গাদের নাগরিক করার মূল উদেশ্য হচ্ছে ইউনিয়নে সন্ত্রাসি কার্যকালাপ করতে সহজ হবে। আসল কথা হলো এর আগে চেয়ারম্যানের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনি। আমি এর সুস্থ বিচার চাই।
লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল ওহাব বলেন, প্রতি মাসে জন্মনিবন্ধন করার জন্য একটা নির্দিষ্ট তার্গেট রয়েছে। আর সেই তার্গেট অনুযায়ী চলতি মাসে ৪টি কম ছিল। আর এই সুযোগে রাহাত গত রাতে আমার নিকট হতে ওপিটি কোড নিয়ে দেড়’শরও বেশি টেকনাফ, চট্রগ্রাম, ময়ময়সিং এলাকার মানুষের জন্মনিবন্ধন তৈরি করেছে। আমি কম্পিউটার সম্পর্কে ভালো না বোঝার কারণে শুভ এবং রাহাত জন্মনিবন্ধনের এ সুযোগটা ব্যবহার করেছে। আমি আসার আগেও তারাই এ কাজ করতো। আমি এখানে আসার পরে শুভোর কু-কর্ম জানতে পারি। এ জন্য আমি বদলির জন্য আবেদনও করছি।
যশোর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার রিপন বিশ^স বলেন, লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন জেলার মানুষদের জন্মনিবন্ধন করা হচ্ছিলো। তবে এরা অধিকাংশ রহিঙ্গা কিনা এখনও নিচ্ছিত বলা যাচ্ছে না এবং কতজনকে জন্মনিবন্ধন দিয়েছে এটা নিচ্ছিত করা হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে দু’জন উদ্যোক্তাকে পরিষদ থেকে ধরে পুলিশের হিফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের দু’জনের নামে মামলা করা হবে।
























