রানা মুহম্মদ সোহেল,বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শাজাহানপুরে শাহরিয়ার ইসলাম রিয়াজ ওরফে আশিক নামে এক কলেজছাত্রের গলা কাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দুইটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ৪০০ টাকা নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরাফত ইসলাম এ তথ্য জানান।
এর আগে, গত রোববার বিকেলে শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের রামপুরের জংলাপুকুরের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে আশিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাতে তাকে গলা ও পায়ের রগ কেটে তাকে হত্যা করা হয়। নিহত আশিক একই ইউনিয়নের পরাণবাড়িয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের বাবুলের ছেলে। বগুড়ার শেরপুর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোববার রাতে নিহতের মা আরজি খাতুন বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডে মোট চারজন জড়িত রয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।
গ্রেফতাররা হলেন- একই উপজেলার পরাণবাড়িয়া পূর্বপাড়া গ্রামের কাউছার, ঝালোপাড়া গ্রামের মাহমুদুল ও রামপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহান। সোমবার বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে সাহানের কাছ থেকে আশিকের মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। আর বাকি দুইজনের কাছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি পাওয়া যায়। নিহত আশিক ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাই একে অপরের বন্ধু।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরাফত ইসলাম জানান, একটি কাজের জন্য নিহত আশিক কাউছারকে ৪০০ টাকা দেন। কিন্তু কাজটি কাউছার করেননি। পরে কাউছার ঐ টাকা মাহমুদুলের কাছে রাখেন। মাহমুদুল সেই টাকা অন্য কাজে ব্যয় করেন। এদিকে কাজ না হওয়ায় ও টাকা ফেরত না পাওয়ায় আশিক ক্ষুব্ধ হন। তিনি কাউছারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এরপর আশিককে হত্যার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্তরা। তারা ঐ ভুট্টাক্ষেতে আশিককে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন গ্রেফতারকৃত তিনজন।
শাজাহানপুর থানার ওসি মো. আব্দুল কাদের জিলানী জানান, গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
























