সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মুহিববুল্লাহর বদলির আদেশের ৪ দিনেরও দায়িত্ব ছাড়ছেন না। বদলির পরও এখনো তিনি সোনারগাঁ থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ফলে সদ্য দায়িত্ব প্রাপ্ত ওসি গোলাম সারোয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারছেন। গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মুহিববুল্লাহকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ অফিস কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ হিসেবে বদলি করেন। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ অফিস কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ পরিদর্শক গোলাম সারোয়ারকে সোনারগাঁ থানার স্থল বিষক্ত করেন। দুইজন কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থালে জরুরী ভিত্তিতে যোগদানের করে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। অফিস আদেশের অনুলিপি ২০টি দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়,গত বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ওসি মো.মুহিবুল্লাহকে বদলি করা হলেও বর্তমানে তিনি সোনারগাঁ থানায় বদলি ঠেকাতে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সাংসদের বিভিন্ন সুপারিশের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এছাড়াও কতিপয় বিশেষ পেশার লোকজনকে তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন। ওসি মুহিবুল্লাহর এমন কর্মকান্ডে থানার কর্মকান্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার সোনারগাঁ থানায় যোগদানের অপেক্ষায় থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে পাননি। ফলে থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম এখনো বর্তমান ওসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
পুলিশের বিশস্ত সূত্রে জানা যায়, ওসি মুহিববুল্লাহ দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে মাদক দ্রব্য উদ্ধার ও মহাসড়কে ডাকাতি ছিনতাই নিয়ন্ত্রনে কাজ করেছেন। মাদক নির্মূল ও ডাকাতি ছিনতাই নিয়ন্ত্রনে দোহাই দিয়ে পুনরায় থানায় বহাল থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা মনে করেন,ওসি হিসেবে যিনি দায়িত্ব গ্রহন করবেন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত থাকবে। এসব কর্মকান্ড স্বাভাবিক বিষয়।
এদিকে সুত্র জানায়, নতুন ওসি গোলাম সারোয়ার গত শুক্রবার সোনারগাঁ থানায় দায়িত্ব গ্রহনের জন্য থানায় আসতে চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করেন ওসি মুহিববুল্লাহ ।
স্থানীয়রা জানায়, গত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের আগে ও পরে প্রভাবশালী ওসি হিসেবে পরিচিত ওসি মুহিববুল্লাহ সোনারগাঁ থানায় বহাল থাকতে জোর লবিং করছেন। ওসি দায়িত্ব পালনকালে হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি বেড়ে যায়। মাদক নিয়ন্ত্রনের দোহাই দিয়ে তিনি পুনরায় দায়িত্ব পালন করলে সোনারগাঁয়ের মানুষের লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হবে বলে মনে করেন তারা।
ওসি মহিবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বদলি হয়েছে সত্য। তবে বদলির আদেশের কবে দায়িত্ব ছাড়তে হবে লিখা নাই। কিছু কাজ কর্ম রয়েছে। সেগুলো গুছিয়ে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তবে লবিংয়ের বিষয়টি সত্য নয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, ওসি মুহিববুল্লাহর ছেলে চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এ কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য তিনি কিছুদিন সময় চেয়েছেন।























