মো:সাব্বির খান, ইবি প্রতিনিধি:
একটি পড়ন্ত বিকেল। সারি সারি গাছের ফাঁক দিয়ে তাকালে দেখা যায়, সূর্যটা পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। চারপাশের সবুজ গাছপালার ছায়ায় ক্যাম্পাসের মাঠ আচ্ছাদিত। নিরুত্তাপ রোদ মনে করিয়ে দেয় সন্ধ্যা নেমে এসেছে। ক্যাম্পাসের মাঠে ঠিক এমন গোধূলি বেলায় শুরু হয় শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। সবার সামনে শরবত, ছোলা, পেঁয়াজু, আলুর চপ, ঘুগনি, ছোলা বুট, বেগুনি, খেজুর ও জিলাপি। এভাবেই ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
বলছিলাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ক্রিকেট মাঠে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রাণবন্ত ইফতারের কথা। শারীরিক কসরত, খেলাধুলা, আড্ডায় মুখরিত মাঠটিতে মাহে রমজানে তাদের উপস্থিতিতে ভিন্ন আমেজ বিরাজ করছে। রমজানের ইফতারের আয়োজনে ব্যস্ত তারা। ঘড়ির কাটার সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে চলছে ইফতার পরিবেশনের কাজ। চারদিকে ছুটাছুটি আর স্বাদের ইফতার তৈরির হিড়িক। একে অপরের প্লেটে কেউ ছোলা দেয় তো কেউ পেঁয়াজু, আলুর চপ আবার কেউ কেউ গ্লাসে গ্লাসে দেয় বাহারি রঙের শরবত। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে এ যেন পরম প্রশান্তি এনে দেয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের। তাইতো তারা উপস্থিত ক্যাম্পাসের এই সবুজ গালিচায়।
ইফতার আয়োজন শেষে ঘড়ির কাটার দিকে নজর থাকে সবার। টিক টিক শব্দের সঙ্গে সময় ফুরিয়ে আসে অন্তিম মুহূর্তের দ্বার। মসজিদের মুয়াজ্জিনের মধুর কণ্ঠে আজানের ধ্বনিতে শুরু হয় ইফতার। সবার মুখে হাসি ফুটে, পাশাপাশি বসে তারা করে তৃপ্তির ইফতার।
ক্যাম্পাসে ইফতারের অনুভূতি প্রকাশ করে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ উৎস বলেন, ক্রিকেট মাঠে বসে ইফতার করায় এক রকমের প্রশান্তি আছে। বন্ধু ছোট ভাই বড় ভাই সকলের সঙ্গে এক হয়ে ইফতার করলে পরিবারের কথা একটু হলেও ভুলে থাকা যায়। সবার সঙ্গে ইফতার করলে মনে হয় এটাই আমার দ্বিতীয় পরিবার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী প্লাবন মাহমুদ বলেন, ক্যাম্পাসের ইফতারে আমাদের প্রাণের সঙ্গে প্রাণের সঞ্চার ঘটায়। আজ ক্যাম্পাসের ইফতারে অন্যরকম তৃপ্তি খুঁজে পেয়েছি। বন্ধু সিনিয়ার ও জুনিযার সকলের সঙ্গে আড্ডামুখর ইফতারে এক ভিন্ন অনুভূতি জাগ্রত হয়। এভাবেই আমরা সম্প্রতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ভালো লেগেছে।
























