মেহেদী হাসান,জামালপুর প্রতিনিধিঃ
জামালপুরে ব্রম্মপুত্র নদে ব্যক্তি মালিকানা জমি থেকে জোর করে মাটিকাটা, ফসলি জকিতে বালি ফেলা বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ এর দাবীতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ব্রম্মপুত্র নদ এর পাড়ে জয়রামপুর এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে কৃষকেরা দাবি করেন, ব্রম্মপুত্র নদ এর পাশের জমিতে ধান, পেঁয়াজ, আলু, মিষ্টি কুমড়া,মরিচ,শশাসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে চর এলাকার কৃষকেরা সংসার চালান।
এদিকে নদীগুলোর নাব্যতা ফেরাতে সারা দেশেই নদী খননের কাজ শুরু হয়েছে। জামালপুর সদর উপজেলার জয়রামপুর এলাকায় কয়েক শতাধিক মানুষ নদীর চরে তাদের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসলেও নদী খননের বালি ফসলি জমিতে ফেলায় ফসল নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভূমি মালিক আনিছুর রহমান, কৃষক মোস্তফা কামাল,রাকিব হোসেন, মোঃ ফরিদ মিয়া, শাহাজাহান মিয়া প্রমূখ।
ভূমি মালিক রাকিব হোসেন বলেন, আমি নদীর চরে আমার ব্যক্তিমালিকানাধীন ৫০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে নদী খননের মাধ্যমে যে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে,সেই বালি আমাদের ফসলী জমির উপর ফেলায় আমরা হুমকির মুখে পড়েছি। যদি এভাবে বালি ফেলে আমার ফসল নষ্ট হয়ে যায় তাহলে আমার পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
আরেক ভূমিহীন কৃষক মোস্তফা কামাল বলেন, এরা এক পাশে মনগড়াভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী খনন করছে। আঁকাবাঁকা করে তারা নদী খনন করছে। এরা আমাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে খনন করছে। এভাবে খনন কাজ চলমান থাকলে আমরা পথের ভিখারী হয়ে যাবো।
জয়রামপুর গ্রামের কিন্ডার গার্ঢেন শিক্ষক আব্দুল বারী বলেন, আমাদের এখানে বেশিরভাগ মানুষ এই জমিতে আবাদ করে সংসার চালান। আমরা চাই এসব অসহায় মানুষদের জমিতে যেন আর বালি না ফেলা হয়।কার বালু ফেলানোর জন্য অনেক জায়গা আছে।সেখানে পরিকল্পনার মাধ্যমে বালি ফেলা হোক। সেই সাথে পরিকল্পিতভাবে নদী খননের দাবী করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, যে জমিতে বালি রাখা হচ্ছে তা সরকারের খাস জমি। এখানে মোট ৫৩ একর সরকারি খাস জমি আছে। এই প্রকল্পের নির্দেশনা অনুযায়ী খাস জমিতে চিহ্নিত করার পরই নদী থেকে উত্তোলিত বালি ফেলা হচ্ছে।
























