মেহেদী হাসান ,জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর পৌর শহরের অন্তর্গত ১১ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান স্বর্ণকার শরিফুল ইসলাম সুমনের উপর ছাত্রদল নেতা আবুল হাসান জয় এর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল শুক্রবার (০৫ মে) রাত ১২ টার দিকে শহরের বগাবাইদ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান,ওয়ার্ড ছাত্রদলের ক্যাডার আবুল হাসান জয় নাশকার মামলায় এক মাস জেল খেটে কয়েক দিন আগে বাসায় ফিরেন। এরপর নিজেকে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সংঘবদ্ধভাবে যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াচ্ছেন। মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে সেবনের মধ্য দিয়ে এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংস করার লক্ষে এলাকায় গড়ে তুলেছেন কিশোর গ্যাং। এসব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম সুমন প্রতিবাদ করলে তার উপর ক্ষিপ্ত হোন হাসান। এরই ধারাবাহিকতায় একদল সন্ত্রাসীদেএ নিয়ে গতকাল রাতে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সুমন এর ইসলাম জুয়েলার্সের দোকানে হামলা করেন আবুল হাসান জয় এর নেতৃত্বে আরও বেশ কয়েকজন।
অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হোন শরিফুল ইসলাম সুমন। এসময় বাড়িতে থাকা সুমনের মেয়ে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সহ তার স্ত্রী কে লাঞ্চিত করার ঘটনাও ঘটে। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা জুয়েলার্স দোকান ভাংচুর, ৯ ভরি সোনার গহনা,৫/৭ ভরি রুপার গহনা সহ ক্যাশ বাক্স হতে ৭ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়।
আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম সুমন কে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে সুমন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ শনিবার (০৬ মে) দুপুরে শরিফুল ইসলাম সুমন বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ছাত্রদলনেতা আবুল হাসান জয় এর নেতৃত্বে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম সুমন এর উপর হামলার ঘটনার পর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরে এক পর্যায়ে সেখানে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। আবুল হাসান জয় এর বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে আবুল হাসান জয়ের নেতৃত্বে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম সুমনকে হামলা করেছে। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি। জয়ের বাড়িতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কেউ হামলা বা ভাংচুর করেনি। এলাকার মানুষ যখন সবাই এক হয়েছে। তখন তারা প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজেরাই নিজেদের বাড়িতে ভাংচুর করে সাজানো নাটক করেছে। সন্ত্রাসীদের দ্রুত গেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন তিনি।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, ঘটনা জানার সাথে সাথেই সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ প্রেরণ করা হয়েছিলো। পরে বাদী পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আকাশ নামে একজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাকী আসামীদের গ্রেপ্তার করা হবে। সদর থানার অভিযান অব্যাহত আছে।
























