মেহেদী হাসান,জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর পৌর শহরের ১১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর এর চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত পৌর কৃষক লীগের সহ-সভাপতি শেখ রোকন (৩৮) সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জামালপুর সদর থানা পুলিশ।
শেখ রোকন শহরের ১১ নং ওয়ার্ডের বগাবাইদ গ্রামের মৃত জবেদ আলীর ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত আরও দুজন হলেন শেখ রোকন এর সহোদর ছোট ভাই মো: মোতালেব ও একই গ্রামের মৃত জামাল উদ্দীনের ছেলে মো: আসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৪ আগষ্ট) চাঁদাবাজির অভিযোগে ৬ জনের নামে অভিযোগ দিলে, জামালপুর সদর থানা পুলিশ রাতেই মামলার প্রধান আসামী সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে।
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, শেখ রোকন একজন মাদকসেবি,চাঁদাবাজ ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী। মির্জা আজম চত্বরে রড সিমেন্টের দোকানে দীর্ঘদিন দিব যাবত চাঁদা দাবী করে আসছিলো। গতকাল ২৪ শে আগষ্ট সকালে শেখ রোকন সহ আরও ৫ জন তার দোকানে গিয়ে চাঁদা দাবী করে ও না দিলে প্রাণ নাশের হুমকী দেয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে জামালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও বলেন,শেখ রোকন বর্তমানে ওয়ার্ড বা কৃষকলীগের কোন পদে নেই। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে পৌর কৃষক লীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগেও একাধিকবার বহিষ্কার করা হয়েছিলো।
স্থানীয়রা বলেন,এলাকায় রোকন শেখ কিছু মাদকদেসবীদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায় এলাকাবাসী। এর আগেও রোকনের নামে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র মামলা সহ বেশকিছু মামলায় জেল খেটেছেন।
উল্লেখ্য, শেখ রোকন ২০০৮ সালে জামালপুর সদর থানায় ৩৮/০৮ নং মামলায় মারামারি ও চুরি , ২০১৫ সালে ২/১৫ নং মামলায় মারামারি, ৪৯/১৫ নং মামলায় মারামারি ও চুরির মামলা এবং একই সালে ৮৪৯/৯৪ নং মারামারির মামলা,২০১৬ সালে শহরের ইকবালপুর এলাকায় ৪৯/১৫ নং অভিযোগে ডাকাতি মামলা, ২০১৮ সালে বগাবাইদ আজাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন কর্তৃক ৩৩৪/১৮ নং অভিযোগে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ও ২০২৩ সালে ৩ শিশু নির্যাতন সহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খাটেন তিনি।
























