মনিরুজ্জামান মনির, যশোর সদর প্রতিনিধি:
শুনালী ধান নিয়ে কৃষকের ভুগান্তির শেষ নেই এবছর। ধান কাটলেই বৃষ্টি হচ্ছে এমন অভিযোগ করেন কৃষকেরা। এদিকে কৃষি অফিস থেকে ধানের আগা কেটে ঘরে তুলার পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ কৃষকের রয়েছে গরু। বিছলী না হলে গরু বাঁচাবে কি করে এমন চিন্তাইও পড়েছে কৃষক। বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটার জন্য শ্রমিক নিয়ে আসছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাজ করে পোশাতে পারছে না। এদিকে দেখা যাচ্ছে সকালে রোদ আবার বিকেলে বৃষ্টি যার কারণে কৃষকের দৌড়ানির শেষ নেই। অনেকে পরিবার নিয়ে ধানের কাজের জন্য মাঠে নেমে পড়েছে। কৃষকেরা সকালের রোদ দেখে কাটা ধান উল্টেয়ে দিচ্ছে। আবার সেই ধান বিকেলে বৃষ্টিতে ভিজছে। এদিকে কয়েকদিন বৃষ্টির পরে মঙ্গলবার এবং গতকাল সকালে আবহাওয়া ভালো দেখে বিভিন্ন মাঠে ধান কাটা শুরু করে। কিন্ত দুপুরে টানা বৃষ্টিতে অনেক মাঠের ধান পানির উপর ভাসছে। আবার কৃষকেরা ভয়ে আছে কাল বৈশাখী ঝড় নিয়ে। আকাশে মেঘ উঠলেই বৃষ্টির সাথে ঝড়ও হচ্ছে।
যশোর জেলা কৃষি অধিদপ্তারের সূত্রে জানা যায়, যশোরে বোরো ধানের চাষ হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৮ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে ৬০ শতাংশ ধান ঘরে তুলেেেত পেরেছে কৃষক। বাকি ৪০ শতাংশ ধান মাঠে বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে।
যশোর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার যশোরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৫১ মিলিমিটার।আজকে ১২টা হতে ৩টার মধ্যে বৃষ্টির চাপ অনেক বেশি আছে। এছাড়া সারা দিন আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। সকাল ৮টা থেকে ৯টায় সূর্য ঞালকা দেখা দিতে পারে। তবে আবহাওয়া সাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ঘুররি ঝড় সম্পর্কে জানা যায়, ৮ মে বলা যাবে বাংলাদেশে ঝড় কবে কখন আঘাত আনতে পারে। তবে এ ঝড়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
উত্তর নলিতাদাহ গ্রামের কৃষক আজহার আলী রিয়াজ জানান, ৫ বিঘা মত ধানের চাষ করেছি। লোক দিয়ে ধার কাটা শুরু করেছি। কিন্তু প্রতিদিন বিকেল হলেই আকাশের যে অবস্থা তাতে ধান নিয়ে খুব ব্যাপাকে আছি। আসলে বৃষ্টির যখন প্রয়োজন তখন বৃষ্টি হয় না। যখন বৃষ্টি প্রয়োজন নেই তখন বৃষ্টি হচ্ছে। কয়েক দিন বৃষ্টি পরে আজ সকাল থেকে খরা দেখে ধান কাটছি। আর সাডে বারোটায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে । প্রায় আড়ায় ঘন্টা বৃষ্টি হয়েছে। মাঠের ধান সব পানির উপর ভাসছে।
বীৃর নারায়ন পুর গ্রামের কৃষক আ. মান্নান জানান, আমাদের মাঠের প্রায় ধান কাঠা রয়েছে। কয়েকদিন পরপর বিকেলে বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু গত মঙ্গলবার বিকেলে বৃষ্টি হয়নি। যার কারণে আজ সকালের আবহাওয়া ভালো দেখে ধান কাটা শুরু করি। কিন্তু দুপুরে টানা বৃষ্টিতে পানির উপর ভাসছে মাঠের অধিকাংশ ধান। এদিকে আগের বৃষ্টিতে ধানে শিকড় হয়ে গেছে। আজ সকালে রোদ দেখে মাঠের ধান লোক নিয়ে উলটিয়ে দিয়েছি। এখন আবার সেই ধানে বৃষ্টি পাচ্ছে। এ ধানের যে এ বছর কি অবস্থা হবে আল্লাহ মাবুদ ভালো জানেন। আকাশের খারাপ অবস্থা দেখে পরিবারের সকলে মিলে ধান বাড়ি আনার চেষ্টা করছি। কষ্ট করে ধান বাড়ীতে আনতে পারলেও এ বছর বিচলী হবে না।
কৃষক শুকুর আলী জানান, এবছর ধান নিয়ে ভালোই সমস্যায় আছি। আজকেও দেড় বিঘা ধান কাটিছি। কিন্তু মাঠের ধান পানিতে ভিজতেছে। ধান কাটলেই বৃষ্টি হচ্ছে। এ দিকে গরুর খায়ানোর জন্য বিছলী হচ্ছে না।
বাঘারপাড়া উপজেলার লক্ষিপুর গ্রামের কৃষক আজিম উদ্দিন জানান, ধান এখনো অর্ধেক বাড়ীতে আনতে পারিনি। এক বেলা রোদ এবং এক বেলা বৃষ্টি এতে ধানে শিকড় গজাতে পারে। প্রতি বছর অনেক টাকার বিছলী বিক্রি করতে পারি । কিন্তু এবছর যে ভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে তাতে ধানও বাড়িতে আনতে পারবো কিনা সেই চিন্তায় আছি। বিছলিতে আসবেই না। এভাবে প্রতিদিন বৃষ্টি হলে কি আমরা বাঁচতে পারি।।
যশোর জেলা কৃষি অধিদপ্তারের উপপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, এ আবহাওয়ায় আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি ধান কাটার সাথেই বাড়িতে আনার। কারণ প্রতিদিন বিকেলে বৃষ্টি হওয়া সম্ভাবনা আছে। যে সমস্ত কৃষক ধান কেটে মাঠে ফেলে রাখছে এসমস্ত ধানে শিকড় আসতে পারে। আজকে যশোরে কথাও কথাও ভারিবর্ষণ হয়েছে। এতে কাটা ধানে একটু সমস্যা হয়েছে। তবে কৃষকরা এ বছর ধান নিয়ে একটু ভগান্তিতে পড়েছে। তিনি বলেন এ বৃষ্টিতে সবজির তেমন কোন ক্ষতি হবে না। তবে কৃষকেরা একটু সচেতন হলে ধান নিয়ে এ বৃষ্টিতে তেমন কোন সমস্যায় পড়তে হবে না।
























